ঢাকা , সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ , ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি, ভাঙছে বসতভিটা ও ফসলি জমি

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৯-০৭-২০২৬ ০৩:১৩:২৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৯-০৭-২০২৬ ০৩:১৩:২৪ অপরাহ্ন
যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি, ভাঙছে বসতভিটা ও ফসলি জমি ছবি : সংগৃহীত
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বাড়ছে যমুনা নদীর পানি। আর সেই পানির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে নদীভাঙন।

বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে নদীতে বিলীন হয়েছে একটি কৃষক পরিবারের বসতভিটাসহ আবাদি জমি। ভাঙন এখন ধেয়ে আসছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের দিকে। এতে আশ্রয় ও জীবিকা হারানোর শঙ্কায় দিন কাটছে নদীপাড়ের হাজারো মানুষের।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, উজানের পাহাড়ি ঢলের কারণে যমুনা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল ৯টায় নদীর পানি ১৫ দশমিক ৫৭ মিটার সমতায় প্রবাহিত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ৯ সেন্টিমিটার এবং তা বিপৎসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধির ধারা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

সরেজমিন ভাঙনকবলিত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, যমুনার তীব্র স্রোতের সঙ্গে বিশাল ঢেউ আছড়ে পড়ছে নদীতীরে। মুহূর্তেই ধসে পড়ছে তীরের মাটি ও বালুর স্তূপ। বিলীন হচ্ছে একের পর এক ফসলি জমি, গাছপালা ও বসতভিটা। সবচেয়ে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে শহড়াবাড়ি ও বানিয়াজান গ্রামের মধ্যবর্তী প্রায় ২০০ মিটার এলাকায়। প্রতিদিনই নদীতে চলে যাচ্ছে নতুন নতুন জমি।

শহড়াবাড়ি গ্রামের কৃষক জুয়েল শেখ নদীতীরে বসে অসহায়ের মতো দেখছিলেন নিজের ভিটেমাটি ভেঙে যাওয়ার দৃশ্য। তিনি জানান, কয়েক দিনের ব্যবধানে তার কয়েক বিঘা আবাদি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। শত বছরের পুরোনো পৈতৃক বসতভিটাও আর নেই।

জুয়েল শেখ বলেন, ‘চোখের সামনে সব শেষ হয়ে গেল। কয়েক দিনের মধ্যে জমি, বাড়ি সব নদীতে চলে গেছে। এভাবে ভাঙন চলতে থাকলে শহড়াবাড়ি গ্রামটাই একদিন মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।’

স্থানীয়দের দাবি, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে যমুনার ভাঙনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় আতঙ্কে থাকতে হয় নদীপাড়ের মানুষকে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক বলেন, ‘উজানের ঢলে যমুনা নদীর পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় তীরবর্তী কিছু এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জিওব্যাগ ও টিউব ডাম্পিংয়ের মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলছে।’
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ